ঘাড় ব্যথায় ভুগছেন? মোবাইল-কম্পিউটার ব্যবহারই হতে পারে কারণ

দিনের বেশিরভাগ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে কাটানো এখন প্রায় সবার জীবনের অংশ। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের স্ক্রিন ব্যবহার ঘাড়ের জন্য নীরবে বড় ক্ষতি করে যাচ্ছে — একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় "Text Neck" বা "টেক নেক সিনড্রোম"। চলুন জেনে নিই কেন এটা হয় এবং কীভাবে এড়ানো যায়।

কেন মোবাইল/কম্পিউটার ব্যবহারে ঘাড় ব্যথা হয়

১. মাথা নিচু করে তাকানো

মোবাইল দেখার সময় স্বাভাবিকভাবেই মাথা নিচের দিকে ঝুঁকে যায়। মাথা যত বেশি নিচু হয়, ঘাড়ের মাংসপেশির ওপর তত বেশি চাপ পড়ে — স্বাভাবিক অবস্থানের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ওজন ঘাড়কে বহন করতে হয়।

২. দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে থাকা

কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক ভঙ্গিতে বসে থাকলে ঘাড় ও কাঁধের মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়, যা ব্যথা ও দৃঢ়তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৩. ভুল উচ্চতায় স্ক্রিন রাখা

ল্যাপটপ বা মনিটর চোখের লেভেলের চেয়ে নিচে থাকলে বারবার মাথা নিচু করে তাকাতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ঘাড়ে ব্যথা তৈরি করে।

৪. বালিশ ছাড়া বা ভুল বালিশে মোবাইল দেখা

শুয়ে থেকে মোবাইল দেখার সময় ঘাড় অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে থাকে, যা পেশিতে বাড়তি চাপ ফেলে।

ঘাড় ব্যথা প্রতিরোধ ও কমানোর উপায়

১. স্ক্রিন চোখের লেভেলে রাখুন

মোবাইল বা ল্যাপটপ এমনভাবে ধরুন বা রাখুন যাতে স্ক্রিনের উপরের অংশ চোখের সমান উচ্চতায় থাকে। এতে মাথা নিচু করার প্রয়োজন কমে যায়।

২. নিয়মিত বিরতি নিন

প্রতি ৩০-৪৫ মিনিট পরপর কাজ থেকে ২-৩ মিনিটের বিরতি নিন। এই সময়ে উঠে দাঁড়ান বা হালকা হাঁটাহাঁটি করুন।

৩. সহজ ঘাড়ের ব্যায়াম করুন

ধীরে ধীরে মাথা ডানে-বামে ঘোরানো, ওপরে-নিচে নাড়ানো, এবং কাঁধ ঘোরানোর মতো সহজ স্ট্রেচিং দিনে কয়েকবার করলে ঘাড়ের মাংসপেশি শিথিল থাকে।

৪. সঠিক বসার ভঙ্গি বজায় রাখুন

পিঠ সোজা রেখে, কাঁধ শিথিল রেখে বসুন। চেয়ারের উচ্চতা এমন রাখুন যাতে পা মেঝেতে সমানভাবে থাকে এবং মনিটর সরাসরি সামনে থাকে।

৫. শুয়ে মোবাইল দেখা কমান

শুয়ে থেকে মোবাইল দেখার অভ্যাস যতটা সম্ভব কমান। প্রয়োজন হলে বালিশের সাহায্যে ঘাড়কে স্বাভাবিক অবস্থানে রাখার চেষ্টা করুন।

৬. গরম সেঁক ও হালকা মালিশ

ব্যথা অনুভব করলে গরম পানির সেঁক দিলে মাংসপেশি শিথিল হয়। হালকা হাতে ঘাড় ও কাঁধে মালিশও আরাম দিতে পারে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

ঘাড়ের ব্যথা হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়লে, হাতে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন অনুভব হলে, অথবা কয়েক সপ্তাহেও ব্যথা না কমলে দেরি না করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার আজকের জীবনে এড়ানো কঠিন, কিন্তু সঠিক ভঙ্গি এবং নিয়মিত বিরতির অভ্যাস গড়ে তুললে ঘাড় ব্যথা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। ছোট ছোট সচেতনতাই দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করে।

পোস্টটি শেয়ার করুন:

Facebook WhatsApp